কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত: লাশ ভারতের অভ্যন্তরে, বিজিবির ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের আহ্বান

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-এর ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই সীমান্তে বিএসএফের বিশেষ টহল দল এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শ্রীমঙ্গল-৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মাগরিবের পর থেকেই সীমান্তবর্তী দত্তগ্রাম এলাকায় তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এমন সময় দত্তগ্রাম বিওপি (Border Outpost) এলাকার ৪৬ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন আশপাশের সীমান্ত এলাকা থেকে হঠাৎ করে ৫ থেকে ৬ রাউন্ড বিকট গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয় সীমান্তবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত বিজিবিকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়া মাত্রই বিজিবির জোয়ানরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে যান এবং ঠিক কী ঘটেছে তা জানতে ভারতের বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন।

শ্রীমঙ্গল-৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রথমদিকে বিএসএফের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিজিবির কোনো ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর বিএসএফ স্বীকার করে যে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝুম বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৫ থেকে ৭ জনের একটি দল কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল।

বিএসএফের দাবি, টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে অনুপ্রবেশকারীদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে বিএসএফের বুলেটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। বিএসএফের গুলিবর্ষণের মুখে বাকিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পালিয়ে আসে।

বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, বিএসএফের গুলিতে নিহত ওই বাংলাদেশির মরদেহটি বর্তমানে ভারতের কাঁটাতারের ভেতরে সীমান্ত এলাকায় পড়ে রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় তাঁর নাম ও স্থায়ী ঠিকানা শনাক্ত করার কাজ চলছে।

মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত আনা এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ইতোমধ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিশেষ ফ্ল্যাগ মিটিং (Flag Meeting) আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *