রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় এক নারী, এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও এক কিশোরসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা, বজ্রপাতে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা। প্রতিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) ভোরে উপজেলার দিলালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ফেরদৌস আলী (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বৃষ্টির সময় বজ্রাঘাতে তার গলা ও বুক ঝলসে যায়।
একই দিন সকাল ৯টার দিকে বদরগঞ্জ পৌরসভার হাসপাতালপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নিলয় কুণ্ডু (১৭) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্ধ বটতলা সংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে জাহিদুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এর আগে রোববার (২৮ জুন) উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের গোপালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে হৃদয় বাবু (৩১) এবং নাটারাম এলাকায় শাহনাজ পারভীন (৪০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই দিন লোহানীপাড়া ইউনিয়নের চড়কডাঙ্গা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে আদিবাসী তরুণী অরপিটা টুডু (১৯)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
এ ছাড়া রাধানগর ইউনিয়নের লালদীঘি টেকসেরহাট মহাসড়কের ধাপপাড়া জামে মসজিদের পাশে সড়ক থেকে সালেক উদ্দিন নাঈম (১৪)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পৃথকভাবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
