কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা-এ প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে টানা ১২ দিন ধরে তার বাড়িতে অবস্থান করে অনশন করছেন এক তরুণী। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়ন-এর পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনরত অবস্থায় দেখা যায়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
তরুণীর দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলা-র চড়বাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন।
পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তরুণী। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, “সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকেই ফিরব না।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই অভিযুক্ত যুবক সেখান থেকে চলে যান।
শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল জানান, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবক ও তার পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে অভিযুক্তসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যুবক বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তরুণী তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
