ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর জন্য বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে বেদনাদায়ক এক রাতে। মাঠে ইংল্যান্ডর কাছে ২-১ গোলে হারের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনের মাঝেই নিজের বাবার মৃত্যুসংবাদ পান দলের প্রধান কোচ সেবাস্টিয়ান দিসাব্রে।
বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুরুতেই চমক দেখিয়েছিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান চিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ৭৫ মিনিট পর্যন্ত সেই লিড ধরে রেখে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখছিল দলটি।
ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। ইংল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ তিনি কখনও হাত, কখনও শরীরের অন্য অংশ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। তার দৃঢ়তায় ম্যাচের বেশিরভাগ সময় হতাশ ছিল ইংলিশ আক্রমণভাগ।
তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষদিকে জোড়া গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। ৮৬তম মিনিটে করা তার জয়সূচক গোলটি ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ভেঙে দেয় এবং ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন কোচ সেবাস্টিয়ান দিসাব্রে। ঠিক সেই সময় দলের প্রেস অফিসার এসে তাকে জানান, তার বাবা মারা গেছেন। মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যস্ত থাকায় এর আগে তিনি এ খবর জানতে পারেননি।
হঠাৎ পাওয়া এই শোকসংবাদে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান দিসাব্রে। মুখের অভিব্যক্তিতেই ফুটে ওঠে গভীর বেদনা। তবুও নিজেকে সামলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং সংক্ষিপ্তভাবে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।
যদিও বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি হয়েছে হতাশার মধ্য দিয়ে, তবুও দিসাব্রের অধীনে ডিআর কঙ্গো ফুটবলে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেয় দলটি। তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল, প্রথম জয় এবং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার কৃতিত্ব অর্জন করে আফ্রিকার দেশটি।
এদিন ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির পারফরম্যান্সও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম তার অসাধারণ গোলকিপিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এমপাসিকে জড়িয়ে ধরে সম্মান জানান।
ম্যাচ শেষে অনুবাদকের মাধ্যমে এমপাসি বলেন, “আমি যেন বিজ্ঞানের জন্য নিজের শরীরটাই উৎসর্গ করে দিয়েছিলাম। আমরা জানতাম হ্যারি কেইন একজন অসাধারণ স্ট্রাইকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাত্র দু’বার আমরা তার প্রতি সামান্য কম মনোযোগ দিয়েছিলাম, আর সেই দু’বারই তিনি আমাদের শাস্তি দিয়েছেন।”
পরাজয়ের মধ্যেও ডিআর কঙ্গোর লড়াকু পারফরম্যান্স এবং কোচ সেবাস্টিয়ান দিসাব্রের নেতৃত্ব বিশ্বকাপের এবারের আসরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
