রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের টানাহেঁচড়ায় রিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু: ৪ দিন পর চলে গেলেন ফার্মা কর্মকর্তা সোহেলি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে চলন্ত রিকশায় ছিনতাইকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হওয়া সোহেলি ইসলাম (৪২) আর বেঁচে নেই। চার দিন ধরে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

নিহত সোহেলি ইসলামের স্থায়ী বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ‘এসকেএফ’ (SKF)-এ মেডিকেল সার্ভিস অফিসার (MSO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকুরির পাশাপাশি তিনি স্নাতকের (Degree/Honors) পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রিন রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তিনি বসবাস করতেন।

নিহতের মামাতো ভাই সারওয়ার পারভেজ জানান, পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে একমাত্র মেয়েকে সাথে নিয়ে গত শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে রওনা দেন সোহেলি। গত রোববার (৭ জুন) ভোরের আলো ফোটার পরপরই বাসটি গাবতলী টার্মিনালে পৌঁছায়। সেখান থেকে মেয়েসহ একটি রিকশায় চড়ে গ্রিন রোডের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।

রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রিকশাটি শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারী চক্র সোহেলির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ লক্ষ্য করে হ্যাঁচকা টান দেয়।

সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম জানান, চলন্ত রিকশায় ব্যাগটি হাত থেকে ছাড়তে না চাওয়ায় ছিনতাইকারীদের প্রবল টানে সোহেলি ছিটকে পিচঢালা রাজপথে পড়ে যান। মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই তাঁর মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মস্তিস্কে প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

ঘটনার পর ভোরবেলা রাস্তা ফাঁকা থাকায় এবং পথচারীদের উদাসীনতার কারণে শুরুতে কেউ রক্তাক্ত সোহেলিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে অসহায় রিকশাচালক এবং একজন সহৃদয় পথচারীর সহায়তায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে পাশেই সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে প্রথমে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডির একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিন্তু মাথায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *