রোনালদোর ৯০ মিনিটের ম্যাজিক: আয়ের অংক সরকারি ১ম গ্রেড কর্মকর্তার ৪৭০ বছরের বেতনের চেয়েও বেশি!

পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাঠে যখন পা রাখেন, তখন সময়ের ঘড়িটা যেন সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে চলতে শুরু করে। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার আয় এখন আর সাধারণ অঙ্কে মাপা যায় না, তা মাপতে হচ্ছে মানব সভ্যতার সময়ের স্কেলে। মাঠের মাত্র ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচেই তাঁর পকেটে ঢুকছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা, যা আমাদের চিরচেনা শ্রমবাজারের সাথে মেলালে এটিকে আয়ের পার্থক্য বলা ভুল হবে; এটি আসলে আস্ত একটি ‘টাইম মেশিন’!

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আল-নাসের সহ সৌদি আরবের ক্লাবের সাথে চুক্তি এবং অন্যান্য খাত থেকে রোনালদো বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার (২৪,৫৯৭,৬২০,০০০ টাকা) সমান!

ধরা যাক, ক্লাব ও পর্তুগাল জাতীয় দল মিলিয়ে তিনি পুরো মৌসুমে গড়ে ৫৫টি ম্যাচ খেলেন। এবার তাঁর বার্ষিক আয়কে এই ৫৫ দিয়ে ভাগ করলেই চোখ কপালে ওঠার মতো হিসাব বেরিয়ে আসবে— মাঠে খেলা প্রতিটি ম্যাচের জন্য তিনি পাচ্ছেন প্রায় ৪৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা! অর্থাৎ, ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচ আর সামান্য ইনজুরি টাইম—তাতেই রোনালদো যা আয় করেন, বাংলাদেশের অনেক বড় করপোরেট কোম্পানিও তাদের পুরো বছরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোট বেতন বাবদ এত টাকা বরাদ্দ রাখে না।

এবার এই বিশাল অঙ্কের পাশে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ১ম গ্রেডের একজন সরকারি সচিব বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তাকে দাঁড় করানো যাক। বর্তমান প্রচলিত পে স্কেল অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল (Basic) বেতন মাসিক ৭৮ হাজার টাকা। সে হিসাবে তাঁর বার্ষিক মূল বেতন দাঁড়ায় ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

  • গাণিতিক সমীকরণ: রোনালদোর এক ম্যাচের আয় (৪৪ কোটি টাকা) কে যদি একজন প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তার বার্ষিক বেতন (৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) দিয়ে ভাগ করা হয়, তবে ফলাফল আসে ৪৭০!

অর্থাৎ, রোনালদো মাত্র একটি ম্যাচে যা আয় করেন, সেই সমপরিমাণ টাকা আয় করতে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আমলার প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৭০ বছরের কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম! অন্যভাবে বলতে গেলে, একজন মানুষ যদি প্রথম গ্রেডে টানা ৪০ বছরও চাকরি করেন, তবুও রোনালদোর পাহাড়সম আয়ের সামনে তা সমুদ্রের এক ফোঁটা জলের মতো।

আরও সহজ করে বললে, বাংলাদেশে একজন ভালো বেতনের সাধারণ চাকরিজীবী যদি বছরে বেতন বাবদ ৬ লাখ টাকা (মাসিক ৫০ হাজার টাকা) ইনকাম করেন, তবে রোনালদোর মাত্র ৯০ মিনিটের আয় ছুঁতে তাঁর সময় লাগবে প্রায় ৭৪৫ বছর! আর রোনালদোর সমান সম্পদ বানাতে গেলে বছরে ৬ লাখ টাকা আয় করা প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের এক বছরের সম্মিলিত আয় লাগবে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাওয়া চড়া বেতন, রিয়াল মাদ্রিদ-ম্যানইউ-আল নাসেরের হয়ে জেতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বোনাস, ইমেজ রাইটস, সিআরসেভেন (CR7) ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপ চুক্তি, নিজস্ব নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশাল ফ্যানবেস—সব মিলিয়ে রোনালদোর নেট ওয়ার্থ বা মোট সম্পদের পরিমাণ এখন অনায়াসেই ১২০ কোটি (১.২ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *