তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত জার্মানিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে নদী, লেক ও হ্রদে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জীবনরক্ষাকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ ও কিশোর। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামলেও অনেকেই আর জীবিত ফিরে আসতে পারেননি।
তীব্র গরমে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিতেও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষ ঘরবাড়ি, পার্ক কিংবা গাছের ছায়াতেও স্বস্তি না পেয়ে আশপাশের নদী, লেক ও হ্রদে ভিড় করেন।
তবে এই স্বস্তি খুঁজতে গিয়েই ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ সাঁতার জানলেও অনেকে সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
জীবনরক্ষাকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে জাক্সেন, নিডারজাক্সেন এবং নর্দরাইন-ভেস্টফালেনসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নদী ও হ্রদে ডুবে মৃত্যুর এসব ঘটনা ঘটেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, শুধু চলতি বছরেই জার্মানিতে পানিতে ডুবে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ডুবে মারা যান ৩৯৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ৪০০-এরও বেশি ছিল, যা পানিতে নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে, প্রায় চার দিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের আবহাওয়ায় নদী, লেক বা হ্রদে নামার আগে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের গভীর পানিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
