ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পাওয়ার পর সুন্দরবনের মধুকে ঘিরে দেশ-বিদেশে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল। রফতানি বাজার সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছিলেন ব্যবসায়ীরাও। তবে সেই সম্ভাবনার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রবণতা। চলতি মৌসুমে সুন্দরবনে মধু আহরণ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অনুকূল আবহাওয়ার অভাব, বনাঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ফুলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে মৌয়ালের সংখ্যা, বন বিভাগের রাজস্ব এবং মধু আহরণের জন্য ইস্যু করা পাসের সংখ্যাও।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সুন্দরবন থেকে সংগ্রহ হয়েছে এক হাজার ৭৪০ দশমিক ৫০ কুইন্টাল, অর্থাৎ প্রায় ১৭৪ মেট্রিক টন মধু। আগের মৌসুমে এ পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৫ কুইন্টাল বা প্রায় ২০৭ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৩৪ দশমিক ৫০ কুইন্টাল, যা প্রায় ১৬ দশমিক ১ শতাংশ।
উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে বন বিভাগের রাজস্বেও। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মধু আহরণ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকায়।
পরিসংখ্যান বলছে, পাঁচ বছর আগেও সুন্দরবন থেকে বছরে ৩০০ মেট্রিক টনের বেশি মধু আহরণ হতো। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ২৮২ মেট্রিক টনে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কিছুটা বেড়ে ৩১৮ মেট্রিক টনে পৌঁছালেও এরপর আবার নিম্নমুখী ধারা শুরু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন নেমে আসে ২০৭ মেট্রিক টনে। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৭৪ মেট্রিক টন মধু, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
