বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে।
গত শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁর পোস্টে লেখেন, চুক্তির পরবর্তী জটিল ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উভয় পক্ষের সঙ্গেই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “চলমান যুদ্ধ অবসানে দুই দেশ চুক্তির এতটা কাছাকাছি এর আগে কখনো পৌঁছাতে পারেনি।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে খোদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কণ্ঠেও। তিনি দাবি করেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা স্বাক্ষরের এতটা কাছাকাছি তাঁরা আগে কখনো আসেননি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এক্সে তিনি একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে বলেন:
“চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট শর্ত বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোকে অনুমানভিত্তিক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আমাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে যথাসময়ে সব সঠিক তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।”
এদিকে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বভাবসুলভভাবে এক ভিন্ন বোমা ফাটিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে মিডিয়াতে যেসব শর্তের কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো আসলে ‘ভুয়া খবর’ (Fake News)। লিখিতভাবে আমরা যেসব শর্তে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছি, তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কই নেই।” তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, “ইরানের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তাদের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক তেল ও সোনার বাজারে ধস নামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের সামরিক ঘাঁটিতে টানা দুই দিন ধরে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে গত বৃহস্পতিবার আচমকাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর পূর্বপরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা বাতিলের কথা জানান। একই সাথে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চিরতরে অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যার ধারাবাহিকতাতেই এই চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হলো।
