ছুটি ফুরালেও কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল: ১০ দিনে ৭ লাখ পর্যটক, ব্যবসা ৭০০ কোটি টাকা

ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক ছুটি শেষ হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগে, কিন্তু তার রেশ এখনো কাটেনি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন পর্যটকের আগমনে মুখর কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে গত ১০ দিনে কক্সবাজারে প্রায় ৭ লাখের বেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে, যার ফলে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পর্যটন খাতে রেকর্ড ৭০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

ঈদের সপ্তাহখানেক আগে হোটেল-মোটেলগুলোর বুকিং মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় কিছুটা হতাশায় ছিলেন তারকাবহুল হোটেল মালিকরা। তবে ঈদের ঠিক আগে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাশা উল্টে যায়।

  • হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইস-এর মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী জানান, ঈদের ঠিক পর থেকেই বুকিং হু হু করে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণত ঈদের পর ৭ থেকে ১০ দিন এই ধারা বজায় থাকে।
  • শুধু বড় হোটেলই নয়, কলাতলীর মাঝারি ও বাজেট ফ্রেন্ডলি রিসোর্টগুলোও এখন পর্যটকে ঠাসা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ভিন্ন আমেজ নিতেই মানুষ কক্সবাজারকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজারের মূল পর্যটন অর্থনীতি সচল থাকে সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের বিনোদন ও সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা:

  • ফটোগ্রাফার ও বিচ বাইক: সৈকতের ফটোগ্রাফার কলিম উল্লাহ জানান, ঈদের পর থেকে পর্যটক বাড়ায় বর্তমানে দৈনিক গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। বিচ বাইক চালক মোহাম্মদ রাসেলও জানান, তাদের ৩টি পয়েন্টেই এখন আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছে।
  • জেট স্কি ও ঘোড়াওয়ালা: জেট স্কি চালক মোবারক ও ঘোড়াওয়ালারা জানান, এবারের কোরবানির ঈদের ব্যবসা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জমজমাট।
  • বার্মিজ ও ঝিনুক সামগ্রী: সুগন্ধা পয়েন্টের পার্ল, ঝিনুক ও আচার ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী ও কামাল উদ্দিন জানান, ঈদ উপলক্ষে লাখ লাখ টাকার নতুন পণ্য মজুত করেছিলেন তারা। ঈদের পর প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে, যা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, “দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা (রেল ও সড়ক পথ) উন্নত হওয়ায় এবার পর্যটকরা নির্ভয়ে সপরিবারে এসেছেন। আমাদের হিসেবে গত ১০ দিনে ৭ লাখ পর্যটকের হাত ধরে ৭০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে, যা ঝিমিয়ে পড়া স্থানীয় অর্থনীতিকে পুরোপুরি চাঙা করে তুলেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *