আজ শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়: ‘তিন ফুটের দূরত্বেও যদি সন্তান নিরাপদ না হয়…’ আকুতি বাবার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার নির্মম ঘটনায় আজ রোববার (৭_জুন) রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন চূড়ান্ত করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণসহ দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মুখর এখন সাধারণ মানুষ।

রায়ের আগের দিন গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়ে তিনি বলেন:

“এক ফ্ল্যাটের এক দরজা থেকে আরেক দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। এই তিন ফুটের মধ্যেও যদি আমরা একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে শুধু সরকারকে দায়ী করলে হবে না। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আরও হাজার হাজার রামিশা এমন নৃশংসতার শিকার হতে পারে।”

আব্দুল হান্নান মোল্লা আরও বলেন, সন্তান যদি সমাজের এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তবে তার দায় সমাজ ও রাষ্ট্রকেও নিতে হবে। তিনি তাঁর সন্তান হত্যার দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর দেখতে চান।

গত ২ জুন এই মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে নিখোঁজের পর খোঁজাখুঁজি, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের রোমহর্ষক বিবরণ উঠে আসে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নাটকীয়ভাবে বলে, আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন।” তবে সে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ দাবি করে। অন্যদিকে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চায়।

  • রাষ্ট্রপক্ষ: যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাকে পালাতে সহায়তাকারী তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ প্রার্থনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
  • আসামিপক্ষ: অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আদালতে দাবি করেন, এই মামলায় কোনো ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হয়নি এবং আশপাশের কোনো সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি আসামিদের খালাস চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *