দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত ১৯ বিজিবি এবং এলিট ফোর্স র্যাব-৯ এর একটি চৌকস দল সিলেটের জকিগঞ্জে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে এই বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে। গতকাল শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) গভীর রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বারঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার ব্রিকস ফিল্ড (ইটভাটা) এলাকায় এই যৌথ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গোয়েন্দা তথ্যে মধ্যরাতের যৌথ অভিযান: পালিয়ে গেল চোরাকারবারিরা
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার মধ্যরাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ওপার থেকে একটি বড় ধরণের নাশকতামূলক বা চোরাচালান চক্রের অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী বাংলাদেশে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট একটি গোপন গোয়েন্দা তথ্য পায় বিজিবি। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও র্যাবের একটি যৌথ আভিযানিক দল বারঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। বিজিবি ও র্যাবের যৌথ উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা তাদের সাথে থাকা ব্যাগ ফেলে গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। পরে উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় নিচে দেওয়া মারাত্মক অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়:
- অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র: ১টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান।
- ডেটোনেটর: ১১টি উচ্চ সংবেদনশীল ডেটোনেটর (যা যেকোনো দূরনিয়ন্ত্রিত বা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়)।
- বিস্ফোরক: ১১টি বিশেষায়িত শক্তিশালী বিস্ফোরক স্টিক/সামগ্রী।
অভিযান পরিচালনাকালে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও, পলাতক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নাশকতার উদ্দেশ্যে চোরাচালানের শঙ্কা বিজিবির
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও ডেটোনেটরের ধরণ দেখে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে—এগুলো অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে বা সীমান্ত গলিয়ে কোনো বড় ধরণের নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ বিদেশি অস্ত্র ও মারণঘাতী মাদকের অনুপ্রবেশ শতভাগ বন্ধ করা এবং যেকোনো পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত এই ধরণের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
