ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি (Ceasefire MoU) লঙ্ঘন করে হরমুজে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য এখন এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।
এর ঠিক আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইরানের মূল ভূখণ্ডের সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব নয়’—ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন বিমান বাহিনীর সফল অভিযানের কথা তুলে ধরে জানান, তেহরানের চুক্তি লঙ্ঘনের উপযুক্ত জবাব দিতেই মার্কিন ফাইটার জেটগুলো ইরানের প্রধান প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলো নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা উল্লেখ করে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন:
“ইরানের উসকানিমূলক আচরণের কারণে পরিস্থিতি এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর কোনো সংযত বা যৌক্তিক কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তা এবার সম্পূর্ণ করতে আমরা বাধ্য হব। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
‘আমেরিকাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে’: পাল্টা হুমকি আইআরজিসি (IRGC)-র
ট্রাম্পের এই অস্তিত্ব সংকটের হুমকির মুখে বিন্দুমাত্র নমনীয় না হয়ে উল্টো ওয়াশিংটনকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ করে দেওয়ার পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআরজিসি এক কড়া বিবৃতিতে দাবি করেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির নৌযান চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের আইনি দায়িত্ব একমাত্র তেহরানের।
আইআরজিসি তাদের হুঁশিয়ারিতে বলেছে:
“এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো বিদেশি বা শত্রুভাবাপন্ন জাহাজের বিরুদ্ধে অতীতের চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো তথাকথিত বিমান হামলা ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া’ তীব্র জবাবের মুখে পড়বে এবং শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন আমরা প্রতিহত করব।”
ইরান আরও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক বিমান হামলা শান্তি চুক্তির পরিপন্থী এবং এর ফলে চলমান সব ধরণের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে গেল।
কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা
সেন্টকমের বিমান হামলার জবাবে কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, আইআরজিসি ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় দুই দেশ বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে এবং সফলভাবে আঘাত হানার দাবি করেছে।
রোববার ভোরে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় মার্কিন বোমারু বিমানের ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও পারমাণবিক হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
