আষাঢ়ের এই ভরা বর্ষায় সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদদের দেওয়া সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের প্রধান প্রধান নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সাথে এসব এলাকায় বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকিতে থাকা ১১টি সুনির্দিষ্ট জেলা:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তায় দেশের যে ১১টি জেলার নদীবন্দরসমূহকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, সেগুলো হলো:
রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।
এই জেলাগুলোর নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে অনতিবিলম্বে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত (Warning Signal No. 1) দেখাতে বলা হয়েছে। ছোট লঞ্চ ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব বিভাগেই বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টির আভাস, ৩ বিভাগে ভারী বর্ষণ
নদীবন্দরের সতর্কবার্তার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত দৈনিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব কয়টি বিভাগেই (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ) দমকা হাওয়ার সাথে তীব্র বিদ্যুৎ চমকানো (Lightning) এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুমি বায়ুর তীব্রতার কারণে দেশের তিনটি অঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা অনেক বেশি থাকবে:
- রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ: এই তিন বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি ধরনের ভারী (২২-৪৩ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে এসব অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সপ্তাহজুড়েই থাকবে ঝড়বৃষ্টির এই তাণ্ডব
আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে উত্তর মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী অবস্থায় থাকায় সারা দেশে ঝড়বৃষ্টি এবং এই ভারী বর্ষণের প্রবণতা আজকেই শেষ হচ্ছে না; বরং এই পুরো সপ্তাহজুড়েই (জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত) দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে দেশের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেলেও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
