খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রকে দায়িত্ব দিয়েছে।
অভিযোগে শিক্ষার্থী জানান, গত ১৩ মে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের সূত্র ধরে ওই শিক্ষক ধীরে ধীরে অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। পাশাপাশি গভীর রাতে একাধিকবার কলও করেন। শিক্ষার্থী কুপ্রস্তাবে সাড়া না দিলে আরও আপত্তিকর বার্তা পাঠানো হয়, যা তার মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তার স্ক্রিনশটও জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম দাবি করেছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায় এবং এরপর থেকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন না। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুনুর রশিদ জানান, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
