‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ মন্তব্যে উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-রুমিন ফারহানার

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদে ঋণখেলাপি সদস্য থাকার অভিযোগ তুললে এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য আইনগতভাবে ঋণখেলাপি নন; তারা বড়জোর ঋণগ্রস্ত হতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তি দেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি ঘোষিত কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলা ছিল, তারা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা মানহানিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সংসদে এমন অনেক সদস্য রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, জনগণের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিতে সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলাটা অস্বাভাবিক নয়।

পরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিষয়টির আইনি দিক তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের আগে সামান্য অর্থ পরিশোধ করে ঋণ পুনঃতপশিল করা এবং আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন, সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংক খাতের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে।

এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন ঋণখেলাপি আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তাই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা অনুচিত এবং এ ধরনের মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *