ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলা: নিহত হলেন শ্রমিক দল নেতা জাহাঙ্গীর আলম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ মেটানোর সালিশি বৈঠকে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের ভাতিজির সঙ্গে একই এলাকার সাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আতাউল্লাহর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ওই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া এবং দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এই দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধটি স্থায়ীভাবে মীমাংসা করার লক্ষ্যে গতকাল সোমবার বিকেলে সুলতানপুর উত্তরপাড়া এলাকায় উভয় পরিবারের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিশ বৈঠক চলাকালীন একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এর জের ধরে মুহূর্তের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, উত্তেজনার একপর্যায়ে বর আতাউল্লাহর পক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা, লাঠিসোটা ও রডের আঘাতে সভাস্থলেই রক্তগঙ্গা বয়ে যায়। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জাহাঙ্গীর আলমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জনেরও বেশি লোক গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারীদের তাড়িয়ে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সুলতানপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি বড় দল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উর রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইটিসি বাংলা-কে বলেন, “পারিবারিক একটি সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং ঘাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। এ বিষয়ে দ্রুতই মামলা দায়ের করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *