মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর (Armed Forces) যুদ্ধপ্রস্তুতি সর্বোচ্চ স্তরে বজায় রাখার এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শান্তি চুক্তি সই হওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা তাদের সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদার করার কাজ থামিয়ে দেবে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) তেহরানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন শীর্ষ সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতির বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ (Fars News Agency) এই চাঞ্চল্যকর অবস্থান ও সামরিক ডকট্রিনের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র তাঁর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকার সাথে চুক্তি কার্যকর হওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও তাঁর দেশ ‘সশস্ত্র বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতির স্তরকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উঁচুতে ধরে রাখবে।’ এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, এই পুরো চুক্তি বাস্তবায়ন চলাকালীন সময়েও ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ড্রোনসহ জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির নিয়মিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক কোনো চাপ বা চুক্তির অজুহাতে ইরানের সামরিক আধুনিকায়ন স্তিমিত করা হবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পাদিত এই সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন, বিচ্যুতি বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এককভাবে নতুন কোনো শর্ত চাপানোর চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শত্রুপক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্র ইসরায়েল) যদি এই চুক্তির মূল শর্তাবলি থেকে সামান্যতম বিচ্যুত হয়, তবে ইরান খুব দ্রুত এবং জোরালোভাবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক সামরিক ও পারমাণবিক পরিস্থিতিকে চুক্তির আগের অবস্থায় (Pre-deal status) ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
মুখপাত্র তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনকে লক্ষ্য করে এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়ে বলেন:
“যদি শত্রু আমাদের সাথে করা এই চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে আমরা পারস্য উপসাগরসহ এই অঞ্চলের সামগ্রিক সামরিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দ্রুত এবং জোরপূর্বক চুক্তির আগের কঠোর শর্তাবলীতে ফিরিয়ে দেব। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের বোতামগুলো এখনো নিষ্ক্রিয় করা হয়নি।”
