কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের ডামাডোলের মাঝে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের মাঠে ফেরা নিয়ে সেলেসাও শিবিরে ধোঁয়াশা ও উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর দলে নেইমারের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে চোটের এই হতাশার মাঝেই জীবনকে নতুনভাবে উদযাপনের উপলক্ষ খুঁজে পেয়েছেন এই সুপারস্টার। বান্ধবী ব্রুনা বিয়ানকার্দির কোল জুড়ে আসতে চলেছে তাঁদের যৌথ জীবনের আরও এক নতুন অতিথি।
গত সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যৌথ পোস্টে নেইমার ও ব্রুনা নিশ্চিত করেছেন যে, বিয়ানকার্দি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁরা তাঁদের তৃতীয় কন্যাসন্তানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছেন।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারের ব্যক্তিগত জীবন ও সন্তানদের সমীকরণটি বেশ বৈচিত্র্যময় ও বড়। নতুন অতিথির আগমনের খবরের পর নেইমারের সন্তান ও মায়েদের তালিকাটি একনজরে দেখে নেওয়া যাক: ১. দাভি লুকা (১৪ বছর): নেইমারের প্রথম সন্তান (ছেলে)। তাঁর তৎকালীন বান্ধবী কারোল দান্তোসের গর্ভে জন্ম নেওয়া লুকার বয়স এখন ১৪। ২. মাভি: সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ব্রুনা বিয়ানকার্দির গর্ভে জন্ম নেওয়া নেইমারের প্রথম কন্যাসন্তান। ৩. হেলেনা: ব্রুনার সাথে সম্পর্কের মাঝেই ব্রাজিলিয়ান মডেল আমান্দা কিম্বার্লির সাথে নেইমারের এক ক্ষণস্থায়ী রোমাঞ্চের সুবাদে জন্ম নেয় কন্যা হেলেনা। সে মাভির চেয়ে মাত্র ৯ মাসের ছোট। ৪. মেল: গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৫ জুলাই নেইমার-বিয়ানকার্দি জুটির ঘরে জন্ম নেয় তাঁদের দ্বিতীয় কন্যা মেল। ৫. আসন্ন সন্তান: গতকাল ১৫ জুনের ঘোষণা অনুযায়ী ব্রুনার গর্ভে আসতে চলা এই শিশুটি হতে যাচ্ছে নেইমারের সামগ্রিকভাবে পঞ্চম এবং ব্রুনার সাথে যৌথভাবে তৃতীয় সন্তান (কন্যা)।
মাঠের বাইরে নেইমারের পরিবার বড় হলেও মাঠের ভেতরে ব্রাজিলের ‘নাম্বার ১০’ জার্সিটি এখনো শূন্য। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন (ESPN) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত রবিবারই জাতীয় দলের অনুশীলনে পুরোদমে যোগ দেওয়ার কথা ছিল নেইমারের। কিন্তু ডান পায়ের মাংসপেশির (Muscle Injury) চোটটি নতুন করে ভোগানোয় জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং তিনি অনুশীলনে নামেননি। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) এই মেডিকেল রিপোর্টের ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করায় ভক্তদের মাঝে রহস্য দানা বাঁধছে।
নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে জাতীয় দলের বিমানে চড়লেও, গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় পাওয়া চোটটি নেইমারকে এখনো ডাগআউটেই বন্দি করে রেখেছে।
আগামী ২০ জুন ফিলাডেলফিয়ায় গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, মরক্কো ম্যাচে নেইমারকে বেঞ্চেই রাখা হবে। তবে হাইতি ম্যাচের আগে তিনি অনুশীলনে না ফেরায় এই ম্যাচেও তাঁর খেলা হচ্ছে না। ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি—দলের মেডিকেল স্টাফরা নেইমারকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না। তাঁদের মূল লক্ষ্য, গ্রুপ পর্ব পার করে দল যখন নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) পৌঁছাবে, তখন যেন শতভাগ ফিট নেইমারকে মাঠে নামানো যায়।
খেলতে না পারলেও ডাগআউটে নেইমারের উপস্থিতি যে দলের জন্য কতটা বড় টনিক, তা মরক্কো ম্যাচেই প্রমাণিত হয়েছে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের ডাগআউটে বসে খেলা দেখার সময় নেইমারের সাথে দেখা করতে আসেন মার্কিন জনপ্রিয় র্যাপার ট্রাভিস স্কট এবং এনএফএল (NFL) কিংবদন্তি ও সাতবারের সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন টম ব্রাডি।
শুধু ভিআইপি আতিথ্যই নয়, ম্যাচের অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতির সময় নেইমারকে ডাগআউট থেকে সতীর্থদের কাছে ছুটে গিয়ে বিশেষ কৌশল ও ট্যাকটিকস নিয়ে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়। নেইমারের সেই পরামর্শের ঠিক খানিক বাদেই মাঠের চিত্র বদলে যায় এবং ব্রুনো গুইমারেসের এক জাদুকরী পাস থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে সেলেসাওদের সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র।
