নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বকেয়া বেতন না দিয়ে উল্টো এক দিনমজুর ও তাঁর স্ত্রীকে প্রকাশ্যে দিবালোকে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে মো. সফিক (৩৮) নামের স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। আজ শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় একটি মাছের খামারের মালিক।
মারধরের শিকার ওই গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যুবদল নেতা সফিকের মাছের খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু সফিক গত দুই মাস ধরে তাঁর স্বামীর কোনো বেতন দিচ্ছিলেন না। সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহার মতো আনন্দের দিনেও বকেয়া বেতন না পাওয়ায় তাঁদের পুরো পরিবার অত্যন্ত মানবেতর ও অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটায়। ঈদের পরও বেতন না পেয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে তাঁর স্বামী সফিকের খামারের কাজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে ওই দিনমজুর পরিবারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন যুবদল নেতা সফিক।
ভুক্তভোগী নারী জানান, আজ শনিবার সকালে তাঁর স্বামী জীবিকার তাগিদে বাড়ির পাশের একটি নদীতে মাছ ধরার জাল পাতেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই জালটি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিনমজুর স্বামী-স্ত্রী তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সফিক সঙ্গে থাকা প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে ওই দিনমজুরকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আবারও ওই দিনমজুরের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে ও রক্ষা করতে স্ত্রী এগিয়ে গেলে যুবদল নেতা সফিক ওই নারীর ওপরও চড়াও হন এবং প্রকাশ্যে তাঁকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। একই সাথে ওই নারী অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা সফিক তাঁর নিজস্ব মাছের খামারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে গা ঢাকা দেওয়ার আগে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সফিক দাবি করেন:
“ওই পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী আমার খামার থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরি করেন। আজ সকালে আমি নদী থেকে জাল নিয়ে আসার পথে ওই নারী ও তাঁর স্বামী উল্টো আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালান এবং মারধর করে আমার নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন।”
হামলার ঘটনার একটি স্পষ্ট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা সুবর্ণচর থানা পুলিশের নজরে আসে। জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, “এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে নারীকে পেটানোর ভিডিওটি দেখামাত্রই আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের জন্য এরই মধ্যে এলাকায় পুলিশের একাধিক টিম পাঠিয়ে অভিযান শুরু করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মামলা রুজু করে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
