ভারতের আসাম রাজ্যের জোরহাটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ (An-32) সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজ অবতরণের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। রানওয়েতে আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা পাঁচজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন (Routine Sortie) শেষে অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুক্ষণ পর ভারতীয় বিমানবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত পাঁচজন সামরিক কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহত দেশপ্রেমিক বীরেরা হলেন: ১. স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং ২. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার ৩. সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা ৪. অগ্নিবীর খেমারাম কুমাবত ৫. অগ্নিবীর দানিশ আলম
নিহতদের মধ্যে শেষোক্ত দুজন ভারত সরকারের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ‘অগ্নিবীর’ সদস্য ছিলেন। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে এই দুঃসময়ে তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক সামরিক সূত্রে জানা গেছে, এএন-৩২ উড়োজাহাজটি জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশন প্রাঙ্গণেই অবতরণ করার মুহূর্তে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়েতে আছড়ে পড়ে এবং এর পরপরই পুরো বিমানে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। এয়ার বেসের নিজস্ব ফায়ার ফাইটার ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ভেতর থাকা পাঁচ আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি বৈরি আবহাওয়া—তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি (Court of Inquiry) গঠন করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাজ্য প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং বিমানবাহিনীর কাছ থেকে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে।
অ্যান্টোনভ এএন-৩২ (An-32) হলো দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী সামরিক পরিবহন বিমান। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যতার কারণে এটিকে ‘ওয়ার্কহর্স’ (Workhorse) বা প্রধান শ্রমজীবী বিমান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এটি মূলত ভারতের বিশেষ সামরিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে (বর্তমান ইউক্রেন) তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে এই মডেলের প্রায় ১০০টি উড়োজাহাজ সক্রিয় রয়েছে।
এই বিমানটি উঁচু পাহাড়ি এলাকা বা চরম গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার মতো অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও মালামাল ও সৈন্য পরিবহনে সক্ষম। এটি প্রায় সাড়ে ৭ টন মালামাল, ৫০ জন সাধারণ আরোহী বা ৪২ জন প্যারাট্রুপার নিয়ে উড্ডয়ন করতে পারে। ভারতের দুর্গম ও সীমান্ত এলাকায় সামরিক রশদ ও সরবরাহ পৌঁছে দিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
