দেশে আবারও মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এই ভূকম্পন সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সিলেট ও সীমান্তবর্তী এলাকার বহুতল ভবনের বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি টের পেয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (EMSC) তথ্য অনুযায়ী:
- রিখটার স্কেলে মাত্রা: ৪ দশমিক ৫।
- উৎপত্তিস্থল: সিলেট অঞ্চলের করিমগঞ্জ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের আসামের শিলচরে।
- গভীরতা: ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। (ভূতাত্ত্বিকদের মতে, কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের যত কাছাকাছি হয়, কম্পনের তীব্রতা তত বেশি অনুভূত হয়)।
সীমান্তবর্তী উৎপত্তিস্থল হওয়ার কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে কম্পন সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট ছিল।
- মূল এলাকা: সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এটি বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়।
- আংশিক এলাকা: রাজধানী ঢাকার কিছু কিছু এলাকার বহুতল ভবনের বাসিন্দারাও মৃদু ঝাঁকুনি টের পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে দেশের কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফার ভূকম্পন। এর আগে গত রোববার (৭ জুন, ২০২৬) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল পুরো দেশ। সেই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানে। মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে ভুটান ও আসাম সীমান্তে পর পর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ভূতাত্ত্বিক সংকেত বা অ্যালার্ম হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
