রাজশাহী মহানগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে আরএমপির চন্দ্রিমা, বোয়ালিয়া ও রাজপাড়া থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন, ২০২৬) রাতে শহরের পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৫৫ পিস ইয়াবা ও ১৫ কেজি গাঁজাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরএমপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে চন্দ্রিমা ও বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি যৌথ দল চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আকস্মিক অভিযান চালায়। সেখান থেকে মোশারফ হোসেন (৪২) নামের এক মাদককারবারিকে আটক করা হয়।
- উদ্ধার: তল্লাশি চালিয়ে মোশারফের কাছ থেকে ২ হাজার ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
- জব্দ: মাদক বিক্রির নগদ ৩৯ হাজার টাকা এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আটক মোশারফ বাঘা উপজেলার ভানুকর (মীরগঞ্জ) এলাকার বাসিন্দা।
একই রাতে রাজপাড়া থানা পুলিশ ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে মাদক প্যাকেটজাত করার সময় হাতেনাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আকবর আলী (৩২), সাকিব ওরফে অন্তর (২৬), সিফাত হোসেন ওরফে কাউসার (২৪) এবং নাসির উদ্দীন (৩৫)। তারা সবাই রাজপাড়া থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
- উদ্ধার ও জব্দ: তাদের হেফাজত থেকে ১৫ কেজি গাঁজা, মাদক প্যাকেট করার কাজে ব্যবহৃত ৪টি কাঁচি এবং ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশাদার মাদককারবারি। পুলিশি রেকর্ডে দেখা গেছে:
- মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে আগে একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
- সাকিব ও সিফাতের বিরুদ্ধে একটি করে মাদক মামলা রয়েছে।
- নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ও জুয়া আইনে পৃথক দুটি মামলা আদালতে চলমান।
এই সপ্তাহের নতুন অভিযানের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
