নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার শোকাহত মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে যান বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রামিসার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও প্রদান করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কন্যাশোকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া রামিসার মা গত ২৩ জুন অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলামের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। মানসিক আঘাতের পাশাপাশি তিনি পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়বিক সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির পর তার এমআরআই, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, তার মানসিক অবস্থার উন্নয়নে ইতোমধ্যে দুই দফা কাউন্সেলিং করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলামকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি এখনো প্রতিদিন রামিসার ডাক আমার কানে শুনতে পাই।” মেয়েকে হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণার এই আর্তনাদে উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় রামিসার বাবা চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আমার রামিসার মাকে সুস্থ করে ফিরিয়ে দিন।” তার এই আবেদন উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বজনদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।
চিকিৎসকদের মতে, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ধারাবাহিক চিকিৎসার ফলে রামিসার মায়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনও বেশ কয়েকটি শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রামিসার ছোট বোনের দেখভালের মতো অন্য কেউ না থাকায় পরিবারের অনুরোধে বুধবার তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পরবর্তী চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম রামিসার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শোকাহত মায়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
