জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,২৯৫, নিখোঁজ প্রায় ৫০ হাজার

ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা-য় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২৯৫ জনে পৌঁছেছে। এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পার হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারছেন না অনেক পরিবার। তবে উদ্ধারকর্মীরা মনে করছেন, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা শহরের অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা যেসব ভবনে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন, সেগুলোতে ‘D’ (Dead) চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করছেন। প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে আরও বহু মরদেহ।

ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পরও স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশার আলো ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থান করে প্রিয়জনের সন্ধান করছেন।

এদিকে, উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেঁচে থাকা মানুষের জীবন রক্ষা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলোতে এক মুঠো খাবারের জন্য মানুষের দীর্ঘ সারি ও হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও লুটপাটের ঘটনাও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের কারণে আগে থেকেই দুর্বল ছিল ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস-এর হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট থাকায় গুরুতর আহতদের চিকিৎসাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার পাঁচ লাখ মানুষের জন্য তিন মাসের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ৫ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় তহবিল, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং ভারী যন্ত্রপাতি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, তবুও বর্তমান দুর্যোগ মোকাবিলায় তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *