শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়ার ঘোষণাকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমরাও চাই, শেখ হাসিনা দেশে আসুক এবং নিজের মামলা নিজে লড়ুক। কিন্তু তার এই দেশে ফিরতে চাওয়ার ঘোষণা আসলে একটা স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। সাহস থাকলে তিনি দেশে এসে জুলাই হত্যাযজ্ঞের আইনি বিচার মোকাবিলা করুন।”

এ সময় ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার কাজ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, আমির হোসেন আমু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের ১০টি মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এই প্রতিবেদনগুলো নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই শেষে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র) হিসেবে দাখিল করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২৮ জুন) একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যিনি বর্তমানে আদালতের দৃষ্টিতে একজন পলাতক আসামি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে ভারতে চলে যান তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে গত প্রায় দুই বছর ধরে দিল্লির একটি নিরাপদ আবাসে অবস্থান করছেন তিনি।

পরবর্তীতে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *