সাতক্ষীরায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সীমান্তবর্তী মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক চরম অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নে। সরেজমিনে কয়রাবিল ব্রিজ এলাকায় গিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক চিত্র দেখা গেছে।
এলাকাবাসী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এই বাঁশদাহা কয়রাবিল ব্রিজটি মাঝখান থেকে ভেঙে ধসে পড়ে আছে। অথচ প্রতিদিন এই ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শত শত সাধারণ মানুষ, ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল। ব্রিজের ধসে যাওয়া অংশে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কোনো রকমে বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ ও মাটিভরা বস্তা ফেলে একটি অস্থায়ী যাতায়াতের সাঁকো বা ব্যবস্থা তৈরি করলেও দিন দিন সেটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা সামান্য ভারী যানের চাপে এটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় কাঁপছেন পথচারীরা।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাথে সীমান্তবর্তী সাতানি, বাঁশদাহা ও কাথন্ডাসহ অন্তত ৭ থেকে ৮টি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কলারোয়া উপজেলায় যাতায়াত এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই কয়রাবিল ব্রিজটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির এমন চলনহীন ও নাজুক অবস্থা থাকলেও এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কাস্টডিয়ান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী ছোট ছোট শিক্ষার্থী, কৃষক, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন ও অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই বিপজ্জনক স্থান পার হতে গিয়ে উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বহু ছোটখাটো যানবাহন ও ভ্যান। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অনতিবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
কয়রাবিল ব্রিজের এই বেহাল দশা ও গণ-অসন্তোষের বিষয়ে ইটিসি বাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (LGED) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন:
“আসলে দীর্ঘদিন আগে নির্মিত এই পুরনো ব্রিজটি আমাদের এলজিইডি (LGED) বিভাগের তৈরি নয়, এটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়েছিল। তবে যেহেতু এটি এখন এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ সড়কের অংশ এবং এখানে স্থানীয় জনগণের তীব্র দুর্ভোগ হচ্ছে, তাই বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা ইতিমধ্যেই সেখানে একটি আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিস্তারিত প্রাক্কলন ও প্রস্তাবনা (Proposal) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি।”
