দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, সাম্প্রতিক গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ের জননিরাপত্তা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে সংসদীয় বিরোধী দল। শুক্রবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও কৌশলগত উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের দেওয়া ঐতিহাসিক গণভোটের রায়কে পুরোপুরি অগ্রাহ্য ও অবমূল্যায়ন করেছে। যার কারণে দেশ যে তিমিরে বা যেখানে ছিল, ঠিক সেখানেই রয়ে গেছে; শাসনব্যবস্থা বা জনগণের ভাগ্যের দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিরোধী দল হিসেবে জনগণের আমানত রক্ষা এবং এই বঞ্চনার জবাব চাইতেই আমরা আজ সরাসরি জনগণের দ্বারপ্রান্তে এসেছি।”
তিনি দেশবাসীকে নিজেদের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যেকোনো মূল্যে অনড় এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো আহ্বান জানান।
দেশের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “বর্তমানে দেশে আইন-শৃঙ্খলার চরম ও আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে, যা কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রের লক্ষণ নয়। সম্প্রতি গাইবান্ধা এবং লক্ষ্মীপুরে ঘটে যাওয়া সহিংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার জীবন্ত প্রমাণ।”
আজ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে মাদক দমনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আইন সংশোধনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাঁর তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
“মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেব যেন সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একাই পালন করছেন, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো—তিনি তাঁর নিজের ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ মূল দায়িত্বের ব্যাপারে একেবারেই কোনো ভ্রূক্ষেপ করছেন না বা উদাসীন থাকছেন। আমি সরকারকে তাদের মূল দায়িত্ব যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি তাঁর দলের কৌশলগত অবস্থান পরিষ্কার করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন:
“সরকার যদি দেশের মানুষের কল্যাণে কোনো ভালো ও ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়, তবে বিরোধী দল হিসেবে আমরা অবশ্যই তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করব। কিন্তু তারা যদি কোনো গণবিরোধী বা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমরা রাজপথে তার তীব্র প্রতিবাদ করব এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে তা বুক দিয়ে প্রতিরোধ করব। কেউ আমাদের ন্যায্য অধিকার না দিলে আমরা ঘরে বসে চুপ করে থাকব না, জনগণের সাথে থেকে মাঠপর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যাব।”
