ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্র স্থান মসজিদকে কলঙ্কিত করে সাড়ে চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহিনুর ইসলাম (৪৪) নামে এক লম্পট ইমামকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গত শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে এই লোমহর্ষক গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত শাহিনুর ইসলাম স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের পবিত্র কুরআন ও কায়দা শিক্ষা দিত।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, ত্রিশালের ওই প্রত্যন্ত এলাকার সাড়ে চার বছরের ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিদিন নিয়ম করে অন্য শিশুদের মতোই স্থানীয় ওই মসজিদের ভেতরে ইমাম শাহিনুর ইসলামের কাছে আরবি পড়তে যেত।
গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মা প্রতিদিনের মতো মেয়েকে বাসায় ফিরিয়ে আনতে বা মেয়ের খোঁজ নিতে আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেন। মসজিদের ভেতরে ঢুকেই তিনি যা দেখেন, তা কোনো মায়ের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। তিনি দেখতে পান, জনমানবহীন মসজিদের একটি কোণে অভিযুক্ত ইমাম শাহিনুর ইসলাম তাঁর সাড়ে চার বছরের শিশুকন্যার সাথে চরম ‘অস্বাভাবিক’ ও আপত্তিকর অবস্থায় লিপ্ত রয়েছে।
মায়ের চিৎকার ও কান্নাকাটিতে চারপাশের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ও মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদের ভেতরে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লম্পট ইমাম পালানোর চেষ্টা করলেও উপস্থিত জনতা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং আটকে রেখে ত্রিশাল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এই নৃশংস ও স্পর্শকাতর ঘটনার পর ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ইটিসি বাংলাকে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে আটক করে।
তিনি আরও জানান, পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং আইনি প্রমাণ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার (Medical Check-up) জন্য তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (MMCH) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ত্রিশাল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান এই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“শিশুটির মায়ের লিখিত অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষিতে আটককৃত ইমাম শাহিনুর ইসলামকে আমরা এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে এই ধরণের বিকৃত অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমরা সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও ফরেনসিক আলামত দ্রুত সম্পন্ন করছি। আসামিকে আজই কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।”
