দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে সর্বোচ্চ সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতের একটি বিশাল স্তম্ভ। এই ব্যাংকটি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা এর ওপর কোনো আঘাত এলে পুরো ব্যাংক খাতের ওপর তার এক চরম নেতিবাচক ও বিপর্যয়কর প্রভাব পড়বে।
গ্রাহকদের আতঙ্ক দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে যে, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে নয়, বরং ব্যাংকটিতে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ সৎ, যোগ্য, পেশাদার এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) গঠন করা হবে।
এর আগে গত রোববার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে শত শত সাধারণ গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসলামী ব্যাংকের বিতর্কিত সাবেক চেয়ারম্যান ও পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অনতিবিলম্বে নতুন ও নিরপেক্ষ পর্ষদ গঠনের দাবিতে স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী ও সচেতন গ্রাহক ফোরামের সমন্বয়করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফটকে দাঁড়িয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি ও আলটিমেটাম তুলে ধরেন:
- এস আলম মুক্ত করার দাবি: আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন কোনো পরিচালনা পর্ষদে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের (S. Alam Group) সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে রাখা যাবে না।
- ২০১৭ সালের আগের মালিকানা পুনর্বহাল: ২০১৭ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তনের আগের প্রকৃত উদ্যোক্তা ও পরিচালক (যারা ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকটির সুশাসনের সাথে যুক্ত ছিলেন), তাদের পর্ষদে পুনর্বহাল করার দাবি জানান তারা।
- ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম: বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। অন্যথায় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘেরাওসহ আরও কঠোর ও রাজপথের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন থেকে সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের পদত্যাগ এবং ব্যাংকটিকে সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করার দাবিতে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে চরের মতো আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন দ্রুত পর্ষদ গঠন ও বিতর্কিত এস আলমের বেনামী শেয়ারগুলো পুরোনো বৈধ মালিকদের কাছে হস্তান্তরের আইনি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দিয়েছিল এই গ্রাহক ফোরাম।
গ্রাহকদের তীব্র ক্ষোভ ও তারল্য সংকটের আশঙ্কায় গত ১৩ জুন এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংকের বিতর্কিত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে সার্বিক রিসিভার বা তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।
