আজ বিশ্ব বাবা দিবস: বটবৃক্ষের মতো আগলে রাখা সেই পরম আশ্রয়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

“বাবা” শব্দটির মাঝেই লুকিয়ে থাকে এক অলিখিত ভরসা। মা যেমন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর আলো দেখান, বাবা তেমনি নিজের সবটুকু সুখ বিসর্জন দিয়ে সেই সন্তানকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার সাহস ও শক্তি জোগান। প্রতিটি সন্তানের সফলতার নেপথ্যে একজন বাবার নীরব আত্মত্যাগ আর ঘামের গল্প লুকিয়ে থাকে। সেই ত্যাগকে সম্মান জানাতেই আজ বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে এই বিশেষ দিন।

ইতিহাসের খতিয়ান ঘাটলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে সন্তানের জীবনের সমান অংশীদার এবং সমানভাবে দায়িত্বশীল—এই বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতেই বাবা দিবস উদযাপনের ধারণাটি সামনে আসে।

এই দিবসের গোড়াপত্তন নিয়ে কিছু ঐতিহাসিক তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

  • প্রথম উদযাপন (১৯০৮): ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার এক গির্জায় প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। তবে তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বড় রূপ নেয়নি।
  • সনোরা স্মার্ট ডডের অবদান (১৯১০): মূলত ওয়াশিংটনের সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক মহীয়সী নারীর একক ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালের ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস উদযাপন শুরু হয়। সনোরা ছোটবেলায় মাকে হারানোর পর তাঁর বাবা একাকী যেভাবে সনোরাসহ তাঁর আরও ৫ ভাইকে বড় করেছিলেন, সেই বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি এই আন্দোলনের সূচনা করেন।
  • প্রেসিডেন্টদের সমর্থন (১৯২৪-১৯৬৬): ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য প্রথম একটি বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এই বিলে পূর্ণ সমর্থন জানান। অবশেষে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ওই দিন জাতীয় ছুটি মঞ্জুর করেন।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বাংলাদেশেও এখন বাবা দিবস বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়। আজ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রবেশ করলেই দেখা যাচ্ছে বাবার সাথে সন্তানদের স্মৃতিবিজড়িত অসংখ্য ছবি ও আবেগী সব স্ট্যাটাস। অনেকেই বাবাকে দামী পোশাক, ঘড়ি বা পছন্দের খাবার উপহার দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন।

তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, একজন বাবার কাছে সন্তানের দামী উপহারের চেয়েও সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো সন্তানের একটুখানি ভালোবাসার সময়। কর্মব্যস্ত এই যান্ত্রিক জীবনে আমরা অনেকেই বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার সময় পাই না। আজ এই বিশেষ দিনে আমাদের প্রত্যেকের উচিত—সব কাজ ফেলে রেখে বাবার পাশে অন্তত কিছু সময় বসা, তাঁর হাতটা শক্ত করে ধরে বলা, “বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *