ঢাকায় ঝটিকা মিছিলের পর লঞ্চ থেকে গ্রেফতার আ.লীগের দুই নেতা

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান সরকারের আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজধানীতে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে ডিবি পুলিশ। রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল ও নাশকতার চেষ্টা চালিয়ে বীরদর্পে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সময় সদরঘাটের ‘ইলিশা’ লঞ্চ থেকে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার দুই সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান তথা শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত হাই-প্রোফাইল দুই রাজনৈতিক ব্যক্তি হলেন: ১. মেহেদী হাসান মিশু: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান সভাপতি।

২. শহীদুল্লাহ কিরণ: একই উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ডিবি পুলিশের নির্ভরযোগ্য ও গোপন সূত্র থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত এই দুই নেতাই ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাবেক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত, ক্যাডার এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিগত সরকারের আমলে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিরোধী মত দমনে এদের ভূমিকা ছিল প্রধান।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা তৃণমূল থেকে ঢাকায় সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে মূলত বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট সফল করার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে উত্তরায় তাদের ঝটিকা মিছিলটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি এবং তাদের মূল নাশকতার ছকটি ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা দ্রুত সদরঘাট এলাকায় চলে যান এবং রাতের লঞ্চে করে ভোলায় পালিয়ে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছিলেন।

এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা জোনাল টিমের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন:

“নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা রাজধানীতে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা সফল করতে না পেরে লঞ্চযোগে ভোলা ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের ডিবির চৌকস টিম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ইলিশা লঞ্চে ব্লক রেইড দেয়। সেখান থেকে ভোলার তজুমদ্দিনের আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী হাসান মিশু ও শহীদুল্লাহ কিরণকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।”

ডিসি মো. ইলিয়াস কবির আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঢাকায় তাদের এই ঝটিকা মিছিলের পেছনে অর্থায়ন কে করেছে, কার নির্দেশে তারা ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন এবং ঢাকার স্থানীয় কোনো কোনো নেতা তাদের আশ্রয় দিয়েছিল—সেসব তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা ও কোতোয়ালি থানায় নাশকতা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের অধীনে বেআইনি সমাবেশের অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *