নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (WPS) এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউএন উইমেনের আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
গত শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের (Sima Bahous) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৈঠকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বৈশ্বিক কূটনীতির মঞ্চে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এবং আপসহীন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি দেশের নারী শিক্ষার উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই বাংলাদেশে প্রথম নারীদের জন্য অবৈতনিক বা বিনা বেতনে শিক্ষার যুগান্তকারী বিপ্লব প্রবর্তিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান তারেক রহমান সরকারের অধীনে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নসহ লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় গৃহীত বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের বিবরণ সিমা বাহাউসের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।
বাংলাদেশের এই প্রগতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি অর্জনের খতিয়ান শুনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
একই সাথে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৮১তম অধিবেশনের (UNGA 81) সভাপতি পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকার নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিমা বাহাউস। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের নীল হেলমেট (UN Peacekeeping) পরিহিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের সাহসিকতাপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন তিনি। নারীর উন্নয়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ইউএন উইমেনের তীব্র আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সিমা বাহাউস।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শেষভাগে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত মিয়ানমারের লাখ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক বিপর্যয় ও বর্তমান বাস্তবতার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বিশেষভাবে ক্যাম্পগুলোতে থাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের সামগ্রিক মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সাম্প্রতিক মারাত্মক ঘাটতি (Funding Shortfall) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত নিরাপদ প্রত্যাবর্তন। আর এই লক্ষ্য অর্জনে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করতে বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
