চাঁদা না দেওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারে হামলা, মূল হোতা গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার বাসিন্দা। বুধবার রাতে জেলার ত্রিশাল উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শেরপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকায় অবস্থিত জনতা ব্যাংকের একটি শাখায় কর্মরত। ২০২৩ সালে নগরের ময়নার মোড় এলাকায় জমি কিনে তিনি একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ভবন নির্মাণের মালামাল তাদের কাছ থেকে কেনার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম নিজের পছন্দ অনুযায়ী অন্য উৎস থেকে মালামাল কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় মালামাল না কিনলে ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত রোববার বিকেলে এ নিয়ে আবারও কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একদল ব্যক্তি নির্মাণস্থলে গিয়ে হামলা চালায়। এতে ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাসুমা হায়াত, ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহমেদ আহত হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাকিম আহমেদের মাথায় আঘাত করা হয় এবং অন্যদেরও মারধর করা হয়।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে হঠাৎ এসে উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরিস্থিতি থামানোর চেষ্টা করলে ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীও হামলার শিকার হন।

ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছেন। অভিযুক্তরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল এবং তাদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কিনতে চাপ দিয়েছিল। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় গত সোমবার নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *