বঙ্গোপসাগরে ফিরছে পাকিস্তানের ‘হাঙ্গর’! নতুন সাবমেরিন ঘিরে কৌশলগত আলোড়ন

বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। চীনে নির্মিত নতুন হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরেও কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির একটি সাবমেরিন সম্প্রতি করাচিতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান আরব সাগরের বাইরে ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলে নিজেদের নৌ-সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবমেরিনটি পাকিস্তানে নিয়ে আসা বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত হলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরেও কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে।

তিনি সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের মোট আটটি সাবমেরিন নৌবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ মূলত ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তাদের কৌশলগত পরিধি বাড়ানোর অংশ। এর ফলে ভবিষ্যতে উন্মুক্ত সমুদ্রে পাকিস্তান ও ভারতের নৌবাহিনীর কার্যক্রম আরও কাছাকাছি আসতে পারে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সাবমেরিন পিএনএস হাঙ্গর ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে ‘হাঙ্গর’ নামটি দক্ষিণ এশিয়ার নৌ-রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, বিমানবাহী রণতরী এবং অত্যাধুনিক সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামরিক সক্ষমতার বিচারে পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন তাৎক্ষণিকভাবে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পাকিস্তানের বাড়তি উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তা-পরিকল্পনায় অতিরিক্ত গুরুত্বের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন নৌ-মোতায়েন পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *