নিজে ব্রাজিলের সমর্থক, তাও রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তিত ঊষসী রায়!

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর কাছে নিজের শৈশবের নস্টালজিয়া, মধ্যবিত্ত পরিবারের আবেগ এবং এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের উন্মাদনার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন ওপার বাংলার ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঊষসী রায়।

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের সোনালী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ঊষসী রায় বলেন, আমার কাছে ফুটবল বিশ্বকাপ মানে একটা উৎসবের মতো। কারণ, ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা আমাদের বাড়িতে একটু বেশিই। আর এই বিশ্বকাপ নিয়ে আমার বহু স্মৃতি রয়েছে।”

২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের স্মৃতি মনে করে ঊষসী বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারে বিশ্বকাপের আমেজ কেমন হয়, তা তাঁর পরিবারকে না দেখলে বোঝা যেত না। তিনি জানান:

“আমাদের বাড়িতে প্রথম বড় কালার টিভি এবং কেবল লাইন এসেছিল ২০০২-এর বিশ্বকাপের সময়। ওটা শুধুমাত্র ‘বিশ্বকাপ স্পেশাল’ কেনা হয়েছিল। কারণ একটাই—বিশ্বকাপের ম্যাচ মিস করা যাবে না, ওটা কালার টিভিতেই দেখতে হবে, ফুল আমেজ নিতে হবে! টিভিনিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারে যা হয় আর কী! তার আগে আমাদের বাড়িতে সাদা-কালো টিভিই ছিল।”

মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সামর্থ্য বা সুযোগ না থাকায় এখন বড় স্ক্রিনের টিভিতেই খেলা দেখছেন জানিয়ে ঊষসী মজার ছলে বলেন, ‘দুধের সাধ ঘোলেই মেটাতে হয়!’ তবে আজকালকার ট্রেন্ড ‘মেনিফেস্টেশন’-এর ওপর তাঁর ভরসা আছে। তিনি আশা করেন, একদিন অবশ্যই সশরীরে গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করার দিন আসবে।

ঊষসী রায় বরাবরই ব্রাজিলের (Brazil) একনিষ্ঠ সমর্থক। নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের সেলেসাও বাহিনী তাঁর হৃদয়ে থাকলেও, এবারের বিশ্বকাপে তাঁর সমস্ত উত্তেজনা ও চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৪১ বছর বয়সী ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ ড্র হওয়ার পর যখন রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা চলছে, তখন ঊষসী তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন:

  • “আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার হলেও এবার সমস্ত উন্মাদনা আর উত্তেজনা কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে। কারণ এটা ওঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ (Last World Cup)।”
  • “পর্তুগাল এবার কী করবে? আর্জেন্টিনা কী করবে? সত্যি বলতে, পর্তুগালকে নিয়েই আমি এবার একটু বেশি চিন্তিত। সিআরসেভেনের এটা শেষ বিশ্বকাপ, তাই মনে আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করছে।”

এবার চ্যাম্পিয়ন কে হবে—তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাননি এই টলি-কন্যা। ‘মনে মনেই থাকুক’ বলে বিষয়টি রহস্যে জিইয়ে রেখেছেন তিনি।

 “অন্যবারের তুলনায় টিকিটের দাম এবার খুব বেশি। একটা নরমাল টিকিটের দামও আকাশছোঁয়া। তবে কোনো কোনো কাগজে পড়েছি, স্টেডিয়ামের ভেতরের ভেন্যুগুলোতে কম্প্যারেটিভলি খাবার বা জলের বোতলের দাম তুলনামূলক কম।”

সবশেষে বিশ্ব রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে ঊষসী বলেন, চরম যুদ্ধের আবহে থেকেও ইরান যেভাবে এই বিশ্বকাপে খেলছে এবং অলরেডি একটা ম্যাচ খেলে ফেলেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে নিরপেক্ষভাবে একটি বিতর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তুলনায় এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি (Opening Ceremony) তাঁর কাছে কিছুটা জৌলুসহীন বা ‘কম কম’ মনে হয়েছে। তবে যাই হোক না কেন, যতদিন বিশ্বকাপ চলবে, এই আনন্দ-উৎসবের আমেজে তিনি চরম এক্সাইটেড থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *