নাঙ্গলকোটে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৯৯৯-এ ফোনের পর চালকসহ ২ জন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় খালার বাড়ি থেকে মায়ের কাছে ফেরার পথে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর পুলিশি অ্যাকশনে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) সকালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত মাঠে নেমে আসামিদের জালে তোলে। পরবর্তীতে গতকাল দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার রাত ৯টায় নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ইটিসি বাংলা ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমকে এই পৈশাচিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির জয়নাল আহম্মদের ছেলে ও অটোরিকশাচালক রিয়াজ মোল্লা (২১) এবং একই উপজেলার অষ্টগ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ফয়েজ আহমেদ (২৬)। এই মামলার এজাহারনামীয় আরেক আসামি আকরাম এখনো পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলার শুভপুর গ্রামে খালার বাড়ি থেকে সাতবাড়িয়া গ্রামে নিজের মায়ের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে ওই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের বোড়রা গ্রামে পৌঁছালে অটোরিকশাচালক রিয়াজ মোল্লা কৌশলে গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেছে বলে নাটক করে। এরপর সে ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়।

গাড়িটি কিছুদূর যাওয়ার পর ‘জাকিরের ট্যাক’ নামক নির্জন স্থানে পৌঁছালে চালক রিয়াজ মোল্লা হুট করে তার বন্ধু পরিচয় দিয়ে ফয়েজ আহমেদকে ওই অটোরিকশায় তোলে। এরপর তারা রুট পরিবর্তন করে কিশোরীকে ফেনীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চৌদ্দগ্রামের পদ্ময়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জোরপূর্বক ঘোরাতে থাকে।

রাত গভীর হলে তারা ওই শিক্ষার্থীকে তেতৈয়া গ্রামে নিয়ে যায় এবং সেখানে জাফরের একটি পরিত্যক্ত নির্জন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেখানে অটোরিকশাচালক রিয়াজ মোল্লা, তার বন্ধু ফয়েজ আহমদ এবং তাদের অপর সহযোগী আকরাম মিলে অসহায় শিশুটির ওপর রাতভর উপর্যুপরি ও বর্বরোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চালায়।

পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে বিষয়টি টের পান এবং কিশোরীর কাছ থেকে পুরো ঘটনার জবানবন্দি শোনেন। এরপর স্থানীয়রা মানবিক কারণে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ফেনীতে তার মায়ের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেন। ফেনীতে গিয়ে কিশোরীটি সব খুলে বললে, তার মা বুধবার (১৭ জুন) সকালে মেয়েকে নিয়ে নাঙ্গলকোটের ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন এবং কোনো বিলম্ব না করে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের জরুরি সাহায্য চান।

জরুরি নম্বরের বার্তা পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের একাধিক দল তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন গোপন ডেরায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মূল এজাহারনামীয় দুই আসামি রিয়াজ ও ফয়েজকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “এই জঘন্য ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভিকটিমের ডিএনএ (DNA) ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য পাঠানো হবে। এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পলাতক আসামি আকরামকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *