কসবা-আখাউড়ার ৯০ শিশুর স্বপ্ন শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান: গুলশানে ব্যতিক্রমী প্রাণবন্ত আড্ডা

রাজধানী ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে গত মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন ও মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের ৯০ জন কৃতী ও সম্ভাবনাময় শিশু শিক্ষার্থীর সাথে এক হৃদ্যতাপূর্ণ ও দীর্ঘ আড্ডায় অংশ নেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে তিনি শিশুদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পড়াশোনা, গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত নানা আগ্রহের কথা অত্যন্ত গভীর মনোযোগ ও পরম স্নেহে শোনেন।

ব্যতিক্রমী ও সুশৃঙ্খল এই আনন্দময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের বড় মেয়ে মেহভীন রহমান মুনিয়া। আড্ডার শুরু থেকেই কোনো রকম কৃত্রিমতা ছাড়াই জাইমা রহমান শিশুদের মাঝে মিশে যান অত্যন্ত সহজ-সরল ও আন্তরিকভাবে।

আড্ডার ফাঁকে নতুন প্রজন্মের এই কচি মনগুলোকে দেশপ্রেম ও উন্নত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজের জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা ও ভাবনা শেয়ার করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শিশুদের উজ্জ্বল চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন:

“তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের আসল রূপকার। তাই শুধু পাঠ্যবইয়ের চার দেওয়ালে বন্দি থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার অন্ধ দৌড়ে শামিল হলেই চলবে না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতিও সমান মনোযোগ দিতে হবে। কৌতূহলী মনই মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে শেখায়।”

ব্যারিস্টার জাইমা শিশুদের মাঝে নেতৃত্বসুলভ মানসিকতা তৈরি, নৈতিক মূল্যবোধ, বড়দের শ্রদ্ধা করা এবং মাটির প্রতি টান বা গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন। তিনি প্রতিটি শিশুর টেবিলে গিয়ে তাদের হাতে আঁকা ছবি ও ডায়েরি দেখেন এবং তাদের মুখে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বলা বড় বড় স্বপ্নের গল্প শুনে করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন।

আয়োজক মেহভীন রহমান মুনিয়া জানান, অবহেলিত ও প্রান্তিক অঞ্চলের এই শিশুদের মনে আত্মবিশ্বাস ও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত এই ৯০ জন শিশু ঢাকার এই তারকা হোটেলে এসে প্রধানমন্ত্রীর কন্যার এত কাছাকাছি বসতে পারবে, তা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল।

অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয় এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও মেহভীন রহমান মুনিয়া প্রতিটি শিশুর হাতে উন্নত মানের শিক্ষা উপকরণ, গল্পের বই ও বিশেষ উপহারসামগ্রী তুলে দেন। ঢাকার বুকে কাটানো এই তিন ঘণ্টার মধুর স্মৃতি বুকে নিয়ে বিকেলে কসবা-আখাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় শিশুরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *