আড়াইহাজারে মাদক আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা: আসামি ছিনতাই, ২ নারী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চরম হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। আসামির স্বজনরা পুলিশকে পিটিয়ে জখম করার পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক কনস্টেবলের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। গতকাল সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া এলাকায় এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় আড়াইহাজার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ২ নারীকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও মূল মাদক আসামিসহ বাকিরা এখনো পলাতক।

আড়াইহাজার থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন খান একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত (Warrant) পলাতক আসামি। গতকাল বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আড়াইহাজার থানার একটি বিশেষ দল জানতে পারে যে, শাহাদাত নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই সংবাদের ভিত্তিতে এএসআই মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশ দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়।

পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢুকে আইনি পরোয়ানা দেখিয়ে শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করতেই বাঁধ সাধে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সহযোগীরা। তাঁরা পুলিশের চারপাশ ঘেরাও করে সরকারি কাজে বাধা দেন এবং শাহাদাতকে পুলিশের হাত থেকে মুক্ত করতে একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে ধস্তাধস্তি ও মারধরে জড়িয়ে পড়েন। এই হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে আসামির স্বজনরা পরোয়ানাভুক্ত প্রধান মাদক আসামি শাহাদাত হোসেন খানকে পুলিশের হাত থেকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক পালিয়ে যেতে সরাসরি সহায়তা করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধস্তাধস্তি ও হামলার এই পুরো বেআইনি ঘটনাটি যখন আড়াইহাজার থানার কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন, তখন অভিযুক্ত অনিক নামের এক যুবক তাঁর ওপর চড়াও হন। অনিক কনস্টেবল সাইফুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক টেনে ছিনিয়ে নেন, যেন হামলার কোনো ডিজিটাল প্রমাণ পুলিশের কাছে না থাকে। এ সময় হামলাকারীরা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি প্রদান করে।

পরবর্তীতে আড়াইহাজার থানা থেকে অতিরিক্ত ও দাঙ্গা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালিয়াপাড়া অবরুদ্ধ করে এবং ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে শাহিনুর বেগম (৪৫) ও মাহিনুর বেগমকে (৪২) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল আসামি শাহাদাত হোসেন খান এবং মোবাইল ছিনতাইকারী অনিকসহ বাকি পুরুষ সহযোগীরা ততক্ষণে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই হামলায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আড়াইহাজার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, দায়েরকৃত মামলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশকে মারধর, আসামিকে পালাতে উসকানি ও সহায়তা, সরকারি সম্পত্তি (মোবাইল) ছিনতাই এবং হত্যার উদ্দেশ্যে প্রাণনাশের হুমকিসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন কঠোর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজল হোসেন ইটিসি বাংলা-কে বলেন, “মাদক ও অপরাধীদের ব্যাপারে আড়াইহাজার পুলিশ কোনো আপস করবে না। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল পরোয়ানাভুক্ত মাদক আসামি শাহাদাত ও মোবাইল ছিনতাইকারী অনিকসহ পলাতক বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বালিয়াপাড়াসহ আশেপাশের এলাকায় আমাদের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

নারায়ণগঞ্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *