বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার কোটি টাকার এক রেকর্ড পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে সরকার। তবে দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে যদি তামাক এবং মাদকের মরণছোবল থেকে রক্ষা করা না যায়, তবে এই বিশাল ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেটও জনগণের কোনো প্রকৃত উপকারে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে তামাকের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমাদের দেশে প্রতি বছর তামাক এবং ধূমপানজনিত বিভিন্ন জটিল ও মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য তাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে। তামাক কোম্পানিগুলো থেকে সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব বা ট্যাক্স আদায় করে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ও ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার পেছনে রাষ্ট্রের সরকারের ব্যয় করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, তামাকের এই বহুমুখী অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সামগ্রিকভাবে দেশের পুরো স্বাস্থ্যখাতকে এবং নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নকে এক বিশাল ও জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। তাই টেকসই বাংলাদেশ গড়তে তামাকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অনুষ্ঠানটি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়ানো ‘হাম’ (Measles) রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সারা দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগতত্ত্ব বিভাগ থেকে যেসব জরুরি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে শতভাগ ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে। দেশের কোনো অঞ্চলেই এখন আর হামের মহামারি বা আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নেই।”
