‘ইরান চুক্তি টেকাতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে’: মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান জো কেন্ট

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি অনুমোদিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে (Peace Deal) টিকিয়ে রাখতে ইসরায়েলের ওপর মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা ব্ল্যাকআউট বা সহায়তা বন্ধের এক নজিরবিহীন আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (NCTC) সাবেক প্রধান জো কেন্ট। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল এই চুক্তিটি ভেস্তে দেওয়ার জন্য যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা উসকানি তৈরি করতে পারে।

গত রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্টে এই মন্তব্য করেন সাবেক মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস কর্মকর্তা জো কেন্ট।

জো কেন্ট মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা কমিউনিটির অন্যতম এক প্রভাবশালী নাম। তিনি সাবেক স্পেশাল ফোর্সেস কর্মকর্তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ও লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি যুদ্ধের এক গভীর ক্ষত বহন করছেন; ২০১৯ সালে সিরিয়ার মানবিজ শহরে ইসলামিক স্টেটের (IS) এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় তাঁর স্ত্রী এবং মার্কিন নেভি ক্রিপ্টোলজিস্ট শ্যানন কেন্ট নিহত হন।

পরবর্তীতে কেন্ট মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (DNI) বিদায়ী পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের অধীনে ‘এনসিটিসি’-র প্রধান হিসেবে যোগ দেন। উল্লেখ্য, তুলসী গ্যাবার্ডও গত ২২ মে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যুদ্ধনীতির দ্বন্দ্বে পদত্যাগ করেছেন। ইরানের সামরিক আগ্রাসন ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদে গত মার্চের মাঝামাঝিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কাউন্টার-টেররিজম পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জো কেন্ট।

এককালের যুদ্ধংদেহী এই মার্কিন কর্মকর্তা এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যদি এই চুক্তিটিকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে হোয়াইট হাউসকে এখনই ইসরায়েলের ওপর রাশ টানতে হবে। কেন্ট তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন:

“যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো করতে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ইসরায়েলকে দেওয়া আমেরিকার সব ধরনের সামরিক, আর্থিক ও গোয়েন্দা সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করা। তেল আবিব এই চুক্তিটি শুরু থেকেই ভেস্তে দেওয়ার প্রতিটি সুযোগ নিয়েছে। আমরা যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিই, তবে তারা ভবিষ্যতেও একই কাজ করবে এবং ওয়াশিংটনকে আবার যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেবে।”

 

শুধু ইসরায়েলকে থামানোই নয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের জীবন রক্ষার্থেও ট্রাম্প প্রশাসনকে এক অভিনব সামরিক পরামর্শ দিয়েছেন জো কেন্ট। তাঁর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার এমন অনেক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা বা নাগালের মধ্যে রয়েছে।

সেসব ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের অত্যন্ত গোপনে ও কৌশলগতভাবে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কেন্ট বলেন, “সেনাদের সরিয়ে নিলে ইরানের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থী সামরিক গোষ্ঠীগুলো আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার নতুন কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফাঁদে জড়ানোর সুযোগ পাবে না।”

জো কেন্টের এই সামরিক বিশ্লেষণের মূল নির্যাস হলো—যেসব কৌশলগত বিষয় এই মুহূর্তে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যা ব্যবহার করে ইসরায়েল কিংবা ইরান নিজেদের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার যুদ্ধে ফিরতে বাধ্য করতে পারে, মার্কিন প্রশাসনের উচিত সেই দুর্বলতাগুলো গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *