স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবারের ওই ঝটিকা মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম। কর্মসূচি শেষ করে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পর, আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে তিনি নিজেই ওই বিক্ষোভের একটি ভিডিও ফুটেজ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন:
“সারা দেশে রাজবন্দীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা মাসুদ হাসানের উদ্যোগে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এই প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অবিলম্বে এই দাবিগুলো পূরণ করা না হলে আগামীতে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সবকিছুর ফয়সালা করা হবে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাবেক এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাংবাদিকদের বলেন, “গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে আমরা হারুয়া এলাকায় মহাসড়কের ওপর এই বিক্ষোভ মিছিলটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।”
এদিকে, আজ শনিবার বেলা ৩টার দিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ঈশ্বরগঞ্জের এই ঝটিকা মিছিলের ভিডিওটি ক্যাপশনসহ প্রকাশ করা হয়। সেখানেও দাবি করা হয় যে, দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসানের উদ্যোগেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগ এই রাজপথের কর্মসূচি পালন করেছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মহাসড়কে মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম হোসেনকে পূর্বের একটি নাশকতার মামলায় আজ শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। ওই মিছিলে কারা কারা অংশ নিয়েছিল, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের পরিচয় এবং তাঁরা আসলেই এই ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কি না—তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনভঙ্গকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
