ঢাকাই চলচ্চিত্রের চেনা মুখ এবং চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘রংবাজ’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের (২৮) ৮ তলা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি ক্রমেই এক গভীর রহস্যে রূপ নিচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে যখন শোবিজ অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের ডালপালা মেলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় তাঁর স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বতকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গতকাল রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) এক দিনের রিমান্ড শেষে মামলার প্রধান আসামি সাফি উল্লাহকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার জোর আবেদন জানান ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান।
ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইটিসি বাংলা-কে জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম আসামি সাফি উল্লাহ মহব্বতকে জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তীব্র পেটের ব্যথা নিয়ে ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ঝিলিকের স্বামী ও পেশায় প্রযোজক সাফি উল্লাহ। চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ায় গত শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফিকে রিলিজ বা ছাড়পত্র দেয়।
ছাড়পত্র পাওয়ার পর বেলা ১১টার দিকে অভিনেত্রী ঝিলিক তাঁর বাবার বাড়ির স্বজনদের কাছে হাসপাতালের কাউন্টারে বিল পরিশোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। টাকা পাঠানোর পর দুপুর সোয়া ১টার দিকেও নিজের ছোট বোন রেশমি আক্তারের সঙ্গে অত্যন্ত হাসিখুশি মেজাজে ভিডিও কলে কথা বলেন ঝিলিক। কিন্তু এই ভিডিও কলের ঠিক এক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে সাফি উল্লাহ হঠাৎ তাঁর শ্বশুরকে (ঝিলিকের বাবা) ফোন করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় জানান, ঝিলিক হাসপাতালের কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দা দিয়ে নিচে পড়ে মারা গেছেন।
শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে ঝিলিকের নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর থেকেই পরিবার দাবি করছে—এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়। ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, কেবিনের ভেতর ১৬ হাজার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো কলহের জেরে ঝিলিককে ৮ তলার বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় শনিবার (১৩ জুন) মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করলে পুলিশ সাফি উল্লাহকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করিয়েছিল।
শোবিজ সংশ্লিষ্টরা জানান, ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় আসমা আক্তার ঝিলিক সম্ভাবনাময়ী এক অভিনেত্রী ছিলেন। সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ও তুমুল আলোচিত ‘রংবাজ’ সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক মহলে বেশ পরিচিতি পান। অভিনয় জগতে কাজ করার সময়ই প্রযোজক সাফি উল্লাহর সঙ্গে তাঁর গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তাঁরা ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পর সংসদের সুখের কথা চিন্তা করে এবং স্বামীর তীব্র অনাগ্রহ ও আপত্তির কারণে ঝিলিক আস্তে আস্তে মিডিয়া জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই ভালোবাসার সংসারের টানাপোড়েনেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে অকালে প্রাণ হারাতে হলো।
