দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে চিরশত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্বাক্ষরের এতটা কাছাকাছি দুই দেশ এর আগে কখনো আসেনি বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
গত শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই পোস্টটি নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার ঝড় ওঠে।
চুক্তি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকায় এক্সে দেওয়া পোস্টে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন আব্বাস আরাঘচি। তিনি লিখেছেন:
“চুক্তিটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর গোপন শর্ত বা বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমগুলোর অনুমানভিত্তিক এবং খণ্ডিত নিউজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আমাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে যথাসময়ে সব সঠিক তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক পোস্টটি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ (Truth Social) শেয়ার করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর আগেই শুক্রবার সকালে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে মিডিয়াতে যেসব শর্তের কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো আসলে ‘ভুয়া খবর’ (Fake News)। লিখিতভাবে আমরা যেসব শর্তে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছি, তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কই নেই।” ইরানি নীতিনির্ধারকদের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “তাদের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তাদের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের সামরিক ঘাঁটিতে টানা দুই দিন ধরে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে গত বৃহস্পতিবার আচমকাই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর পূর্বপরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা বাতিলের কথা জানান।
একই সাথে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চিরতরে অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একদিকে ইরানকে কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে আবার পর্দার আড়ালে একটি বড় সমঝোতা চুক্তির ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন।
