‘জিয়াউর রহমানের আদর্শ আজ ও সমান প্রাসঙ্গিক’: মিরপুরে স্মৃতিচারণ ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে ডা. রফিকুল

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বৈপ্লবিক দিকগুলো তুলে ধরেন।

গত শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসায় এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্যাংকার্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,

“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল মহান স্বাধীনতার ঘোষকই নন, তিনি বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের প্রকৃত রূপকার। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে পুনর্গঠন করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এবং একটি উৎপাদনমুখী জাতি গঠনে তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সীমাবদ্ধতার বৃত্ত থেকে বের করে বেসরকারি খাত, আধুনিক কৃষি, শিল্পায়ন ও রপ্তানিনির্ভর উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ ছিল মূলত গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের একটি যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক রূপরেখা।

একজন পেশাজীবী চিকিৎসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের স্বাস্থ্য নীতিমালার ভূয়সী প্রশংসা করে ডা. রফিকুল বলেন, বাংলাদেশে আজ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক যে কাঠামো দৃশ্যমান, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (EPI) ভিত্তি স্থাপন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের দেশব্যাপী সম্প্রসারণ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ এবং দক্ষ স্বাস্থ্য জনবল তৈরির মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক দৃঢ় ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন, যার সুফল দেশের মানুষ আজও ভোগ করছে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আত্মনির্ভরশীল, উৎপাদনমুখী, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন, তা বর্তমান ২০২৬ সালের এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ ও উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করেই একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা শেষে মাদ্রাসার শত শত এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নত মানের খাদ্য বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ জায়েদ আল ফাত্তাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা জজ মো. ফরিদুল আলম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কাদের সিদ্দিকী এবং জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা চৌধুরী বেবী।

এছাড়া যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা, ডা. কায়েস, ডা. রায়হান, ডা. মমী, ডা. সিফাতসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সিনিয়র ব্যাংকার, পেশাজীবী চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *