ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর চাপ আরও বাড়াতে একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (OFAC)। গত শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এই নেটওয়ার্কটি শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি এলপিজি আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করে আসছিল।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই চোরাচালান চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ইরানি এলপিজি-কে ওমানের উৎপাদিত জ্বালানি হিসেবে ভুয়া পরিচয়পত্র (ডকুমেন্টেশন) তৈরি করত।
- মূল রুট: সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও চীনভিত্তিক কিছু ফ্রন্ট বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে এই জ্বালানি এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছিল।
- শ্যাডো ফ্লিট: এই অবৈধ বাণিজ্যে ইরানের একটি গোপন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজ নেটওয়ার্ক যুক্ত ছিল। এবারের নিষেধাজ্ঞায় এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ২টি ব্যক্তি, ১২টি প্রতিষ্ঠান এবং ৬টি এলপিজি বহনকারী জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জ্বালানি পাচারের পাশাপাশি ইরানের একটি প্রধান কারেন্সি এক্সচেঞ্জ হাউস ‘মেহেরদাদ গেরামিয়ান নিক অ্যান্ড পার্টনার্স কোম্পানি’ এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের বড় বড় ব্যাংকগুলোর (যেমন- ব্যাংক তেজারত, ব্যাংক মেল্লাত) হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শত শত মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজ করে দিচ্ছিল।
- এটি মূলত ইরানের তেল ও গ্যাস বিক্রির অর্থ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ চ্যানেল হিসেবে কাজ করছিল।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমান্তরালে সমুদ্রবক্ষে সামরিক ব্লকেড বা অবরোধ আরও জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা ভারত মহাসাগরে (শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি) ভুয়া রেজিস্ট্রেশনে চলাচলকারী ‘ডাভিনা’ (MT Davina) নামের একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজকে মাঝসমুদ্রে আটকে তল্লাশি ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী এই জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এশিয়ায় যাচ্ছিল বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি।
