প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সৌজন্য সাক্ষাৎ: সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (Mr. SAIDA Shinichi) এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অবস্থিত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে পৌঁছালে রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে উভয় পক্ষ দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল’ অর্জনের লক্ষ্যে জাপানের উন্নত প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি এই বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।

বৈঠক শেষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষই দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা, নিয়মিত সামরিক প্রতিনিধি দলের পারস্পরিক সফর এবং পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া, আধুনিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি এবং সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। একই সাথে এটি দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিকে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও কার্যকরী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈশ্বিক টেলিকমিউনিকেশন জায়ান্ট ‘ভিওন’ (VEON)-এর চেয়ারম্যানের এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *