দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের অলস বা সঞ্চিত অর্থকে শরিয়াহসম্মত উপায়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নিলামের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো বাজারে আসা এই স্বল্পমেয়াদি বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুকটির অফিশিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘শর্ট টার্ম বিজিআইএস (২৭৩ ডেইস)’ [Short Term BGIS (273 Days)]। সরকারের মেগা প্রকল্প ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (আইআরআইডিপি-২)’ এর বিপরীতে এই সুকুকটি ইস্যু করা হচ্ছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইন বিডিং
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অধীন গঠিত উচ্চপর্যায়ের ‘শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি’র চূড়ান্ত অনুমোদন ও শরীয়াহ ঘোষণাপত্র সাপেক্ষেই এই সুকুকের প্রসপেক্টাস চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, সুকুকটি সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত ‘ইজারা’ (Lease) পদ্ধতিতে ইস্যু করা হচ্ছে। ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের (Face Value) এই সুকুকের মেয়াদ হবে ২৭৩ দিন এবং এর মেয়াদোত্তীর্ণ বা ম্যাচিউরিটির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৯ মার্চ।
আজ ২৮ জুন (রোববার) সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ‘Shariah Securities Module (SSM)’-এর মাধ্যমে এই নিলাম প্রক্রিয়া লাইভ বা সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে। বিডে যারা অংশ নিয়েছেন এবং সফল বা কৃতকার্য হয়েছেন, তাদের অনুকূলে বরাদ্দ করা সুকুকের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ আজ বিকেল ৪টায় তাদের স্ব স্ব আইডিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
২৭৩ দিনে বার্ষিক ৯.৩৬% নিশ্চিত মুনাফা পরিশোধ
এই সরকারি সুকুকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর উচ্চ ও নিরাপদ মুনাফার হার। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, এই সুকুকে বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ২৭৩ দিনে ভাড়া (Rental Return) বাবদ সর্বমোট ৩৮৫ দশমিক ০৪ কোটি টাকা মুনাফা দেওয়া হবে। এই মুনাফার হার বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী দাঁড়ায় ৯.৩৬ শতাংশ ($9.36\%$)। মেয়াদপূর্তিতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২৯ মার্চ বিনিয়োগকারীরা এককালীন আসল টাকার সাথে এই মুনাফা বা ভাড়া একসাথে বুঝে পাবেন, যা বর্তমান ব্যাংকিং খাতের সাধারণ এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের তুলনায় বেশ লাভজনক ও শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত।
কারা এবং কীভাবে এই নিলামে অংশ নিতে পারছেন?
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজভাবে বুঝতে নিচে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
- সরাসরি অংশগ্রহণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সরাসরি চলতি বা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব রয়েছে এমন দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) এই নিলামে সরাসরি অংশ নিতে পারছে।
- পরোক্ষ বা সাধারণের অংশগ্রহণ: দেশি-বিদেশি সাধারণ ব্যক্তি পর্যায়ের যেকোনো ক্ষুদ্র বা বড় বিনিয়োগকারীসহ দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ডিপোজিট ইন্সুরেন্স ফান্ড এই নিলামে অংশ নিতে পারছেন। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারী যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনলাইন বিডে অংশ নিয়েছেন।
- বিনিয়োগের সীমা ও এসআইআইডি (SIID): সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এর গুণিতক পরিমাণে (যেমন ২০, ৩০, ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা) সুকুক ক্রয়ের জন্য অনলাইনে বিড দাখিল করতে পারছেন। এই সুকুকে বিনিয়োগের লক্ষ্যে নতুন বিনিয়োগকারীরা গত ২৫ জুনের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেই তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের সুকুক ইনভেস্টর আইডি বা SIID (Sukuk Investor ID) খোলার প্রাথমিক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
