ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তেহরানের পক্ষে সরাসরি সামরিকভাবে যুদ্ধে নামার জন্য অন্যতম প্রধান প্রার্থী ছিলেন। ওভাল অফিসে ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর গোপন কূটনৈতিক তথ্য প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এরদোয়ানের মানসিকতা ও ইসরায়েল বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইসরায়েলের নীতিকে মোটেও পছন্দ করেন না। ফলে এই চলমান সংঘাত বা যুদ্ধে তিনি হয়তো ইরানের পক্ষে বা তাদের সমর্থনে মাঠে নামার জন্য প্রধান একজন দাবিদার ছিলেন।”
তবে বড় ধরণের আঞ্চলিক বিপর্যয় এড়াতে তিনি নিজে কীভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন, তার বিবরণ দিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন:
“পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে দেখে আমি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানের সাথে যোগাযোগ করি এবং তাঁকে এই সংঘাত থেকে পুরোপুরি দূরে থাকার জন্য অনুরোধ জানাই। তিনি আমার একজন দারুণ বন্ধু এবং আমি এ যাবৎ তাঁর কাছে যা কিছু চেয়েছি, তার সবই তিনি করেছেন। আমার সেই অনুরোধের পর তিনি এই যুদ্ধ থেকে তুরস্ককে দূরে রেখেছেন।”
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থেকে তুরস্ককে দূরে রাখার এই মনস্তাত্ত্বিক কূটনীতির সমান্তরালে, আঙ্কারার ওপর ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সামরিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এক বড় ধরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট ‘কান’ (KAAN)-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেলে ইলেকট্রিক কোম্পানির তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী এফ-৪১৪ (GE F-414) জেট ইঞ্জিন সরবরাহের একটি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন ইতিপূর্বেই মার্কিন কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
একই সাথে, ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ (S-400) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার অপরাধে তুরস্ককে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) লাইটনিং-২ স্টিলথ ফাইটার জেট প্রোগ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তা পুনর্বহালেরও স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প ও তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “তুরস্ক একজন শক্তিশালী ন্যাটো সদস্য। আমি খুব শীঘ্রই এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা এরদোয়ান এবং তুরস্ককে অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট করবে।” জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন আইন মেনে কীভাবে তুরস্ককে এফ-৩৫ ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) খতিয়ে দেখছে।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আমন্ত্রণে এবং তাঁর প্রতি বিশেষ সম্মান জানিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনে সশরীরে অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এরদোয়ানের সাথে তাঁর এই গভীর সম্পর্কের কারণেই তিনি এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন, যা ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ফাটল মেটাতে সাহায্য করবে।
