‘ফ্যাসিস্ট শাসনামলের একমুখী পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশ’: রুহুল কবির রিজভী

নতুন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। নয়াপল্টনের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে এক নতুন ও অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ একটি সুনির্দিষ্ট একমুখী ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল, যা দেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই বৃত্ত ভেঙে সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বকীয় ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি (Multi-Vector Foreign Policy) গ্রহণ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীন কূটনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সেই নীতি অনুসরণ করেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাকে পুনপ্রতিষ্ঠা করছেন।”

চীনের সাথে বাংলাদেশের গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে রিজভী আরও বলেন:

  • অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপহীন বন্ধু: চীন এমন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র, যা কখনোই অন্য কোনো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ক্ষমতার সমীকরণ বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করে না। তাই চীন বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার।
  • ১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য: বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে চীনের শিল্প, অবকাঠামো, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং সেবা খাতে চীনা মেগা বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও জানান, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (World Economic Forum – Summer Davos) আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী বক্তব্য এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বিশ্বনেতাদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতিগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে রিজভী বলেন:

“জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমাদের সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিন এনার্জি খাতে বড় ধরণের বিশেষ কর-সুবিধা (Tax Incentives) প্রদানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো—আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস, বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তি (Solar Energy) থেকে অর্জন করা। বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *